গত ১ জুলাই থেকে কার্যকরের তারিখ উল্লেখ করে আজ-কালের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) গ্রাহকদের এখন সব জায়গায় বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট ক্রয়ে ৯ শতাংশ সুদহারে ঋণ দিচ্ছে, যা আগে এর চেয়ে কিছুটা বেশি ছিল।

বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট ক্রয়ে সংস্থাটি এত দিন ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ফ্ল্যাট ঋণ ছাড়া সব ধরনের ঋণে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ সুদহারে ঋণ দিত। আর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকাসহ সব বিভাগীয় ও জেলা সদরে ঋণ দিত ১০ শতাংশ সুদে। উভয় ক্ষেত্রেই এবার অভিন্ন সুদের হারে ঋণ দেবে এই সংস্থা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিএইচবিএফসির ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের প্রস্তাব অনুমোদন করে গত রোববার সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেবাশীষ চক্রবর্ত্তীকে একটি চিঠি দিয়েছে। এতে গত ১ জুলাই থেকে নতুন সুদহার কার্যকর করতে বলা হয়েছে। দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী এই চিঠি পেয়েছেন বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৯ আগস্টের মধ্যে ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর বিএইচবিএফসির পরিচালনা পর্ষদ ঋণের সুদ কমিয়ে আনার যৌক্তিকতা রয়েছে বলে একমত হয়। সে অনুযায়ী বিএইচবিএফসি গত ২৯ আগস্ট ৯ শতাংশ সুদহারে ঋণ বিতরণের একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠায়। সেই অনুমোদনটিই মিলেছে গত রোববার।

২০০৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার অতি উন্নত এলাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যান্য উন্নত এলাকায় বিএইচবিএফসির দেওয়া গৃহনির্মাণ ঋণের সুদের হার ছিল ১২ শতাংশ। ১১ বছর পর সংস্থাটি সুদের হার কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে কার্যকর করে ২০১৭ সালের ১ জুলাই। একই দিন থেকে ফ্ল্যাট ক্রয়ে দেওয়া ঋণের সুদহার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ কার্যকর করা হয়। উভয় সুদের হারই এখন ৯ শতাংশ করা হয়েছে।

তবে টঙ্গী, সাভারসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরে গৃহনির্মাণ ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে যে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছিল। সেটি অবশ্য এবার বদলানো হয়নি।

যেসব গ্রাহক এরই মধ্যে ১০ ও ৯ দশমিক ৫ শতাংশ সুদহারে ঋণ নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও নতুন হার কার্যকর হবে বলে বিএইচবিএফসি সূত্রে জানা গেছে। তবে নতুন হারের সুযোগ নিতে গেলে অবশ্যই তাঁদের সব কিস্তি পরিশোধ থাকতে (আপ-টু-ডেট) হবে। কোনো গ্রাহক আপ-টু-ডেট না থাকলে, যে তারিখে আপ-টু-ডেট হবেন, তার পরের মাস থেকে তাঁর ঋণের ক্ষেত্রে নতুন হার কার্যকর হবে।

বিএইচবিএফসিতে বর্তমানে ৩২ হাজারের মতো গ্রাহক রয়েছেন। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংস্থাটি ৪০১ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। একই সময়ে ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিতরণ করেছে ৩৬২ কোটি টাকা ঋণ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে বিএইচবিএফসির চুক্তি অনুযায়ী চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য সংস্থাটির ঋণ মঞ্জুরের লক্ষ্যমাত্রা ৬০০ কোটি টাকা। আর বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৪০০ কোটি টাকা।

এদিকে বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট কেনায় দেশব্যাপী ঋণ বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করতে ৩১টি নতুন শাখা খুলতে যাচ্ছে বিএইচবিএফসি। বর্তমানে আঞ্চলিক কার্যালয়সহ ২৯টি শাখা নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে সংস্থাটি। নতুন শাখাগুলো চালু হলে মোট শাখা দাঁড়াবে ৬০।

জানতে চাইলে দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গৃহঋণে নতুন সুদহারের সুযোগ নিয়ে স্বল্পবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষেরা তাঁদের আবাসন স্বপ্নপূরণ করুক-এটাই আমাদের চাওয়া। কাল-পরশুর মধ্যে (আজ ও আগামীকাল) এ ব্যাপারে বিএইচবিএফসির পক্ষ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’

অভিন্ন খবর

Leave a Reply